মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

সমাজ শাহী মসজিদ

প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন সমাজ শাহী মসজিদ

 

 

পাবনার চাটমোহর থানার থেকে ১০/১২ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে সমাজ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন শাহী মসজিদ। এ অঞ্চলে সকল প্রাচীন স্থাপত্য কলা রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। সমাজ শাহী মসজিদ নামে এটি পরিচিত। প্রায় সাড়ে ৪ শ’ বছর আগে ১৫৪৯ সালে তৎকালীন দিল্লীর শাসক শেরশাহের পুত্র সুলতান সেলিম মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রাচীন স্থাপত্য কলার নিদর্শন রয়েছে এর নির্মাণ কৌশলে। মূল ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ৪ কোণে আরো ৪ টি ছোট স্তম্ভ গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালে দু’টি কৃষ্ণবর্ণ পাথর। আর তাতে রয়েছে পবিত্র কোরআনের খোদাই করা আয়াত। এ মসজিদ থেকে কোরআনের আয়াত লিখিত দু’টি শিলালিপি ১৯৪২ সালে ভারতের যাদুঘরে নেয়া হয়েছে বলে শোনা যায়। মসজিদটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ) এর মাজার। তার পাশেই এক বিশাল দীঘি। পাঠান ও মোঘলদের ক্রীড়া ভূমি ছিল এই সমাজ গ্রাম। বাংলা ও বিহারের শাসনকর্তা থাকাকালীন সময়ে শেরশাহ অবসর কাটাতে আসতেন এ গাঁয়ে। পাঠান সৈন্যদের একটি ঘাঁটিও ছিল এখানে। রাজা-বাদশাদের নিয়ে আমাদের দেশে অনেক গল্প রয়েছে। বোঝা মুশকিল এর কোনটি সত্য, কোনটি নয়। হতে পারে এটাও তেমনি একটি গল্প। শেরশাহ ভালোবেসে ফেলেন এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে। তাকে বিয়ে করে কিছুদিন বাস করেন এ গাঁয়ে তখনো নির্মাণ হয়নি এ মসজিদ। মসজিদের জায়গায় ছিল এক দরবেশের আস্তানা। এক গভীর রাতে বাঁশীর সুরে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন শেরশাহে স্ত্রী। সুর ভেসে আসছিল ঐ দরবেশের আস্তানা থেকে। সুর অনুসরণ করে বেগম গিয়ে ঢোকেন আস্তানায়। শেরশাহ এ ঘটনা জানতে পেরে স্ত্রীকে ত্যাগ করে চলে যান বিহারে। এ সময় বেগম ছিলেন ৭ মাসের অন্তঃস্বত্তা। ধর্ম কন্যা রুপে বেগম দরবেশের আস্তানায় স্থান পায়। সে আস্তানাতেই তার এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। দরবেশ তার নাম রাখেন সেলিম। সেলিম বড় হয়ে পিতার পরিচয় উদ্ধার করে। এ সময়ে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন শাহাজাদা সেলিম। তখনই সেলিম দরবেশের ঐ আস্তানায় মসজিদটি নির্মাণ করেন। লোকের বিশ্বাস ঐ দরবেশই হলেন হযরত আশরাফ জিন্দানী ( রহঃ )। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই লোকজন আসে। এই মসজিদের অদূরেই শীতলাই রাজবাড়ী। এটিও সবার দৃষ্টি আর্কষণ করে।